বিজ্ঞানকে কট্টর করেছে পুঁজিবাদ
রিফাত বিন সালামপ্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০২০
সমান্তরাল বিশ্ব, পরমাণুর অদ্ভুত আচরণ, একটা ক্ষুদ্র কণার অস্তিত্ব আছে আবার একই সাথে নাই, অথবা এরিক ভন দানিকেনের তত্ত্ব কিংবা পোস্ট মর্ডান বিজ্ঞান (শব্দটা নিয়ে অনেকের নানা মত আছে) বিজ্ঞানের এসব তত্ত্ব ধর্ম বা উপকথাকে অনেকটা আলাদা দৃষ্টিতে দ্যাখে। তত্ত্বগুলো এখনও অবশ্য খাতা কলমে শক্ত অবস্থানে আসেনি। আর পুঁজিবাদী বিজ্ঞান সে তত্ত্বগুলোকে এখনও সমর্থন করছে না। তাই মানুষও গুরুত্ব দিয়ে সে চিন্তাকে গ্রহণ করছে না।
বিষয়গুলো এখনও কারো কাছে কাল্পনিক, কারো কাছে স্রেফ ফ্যান্টাসি সায়েন্স। যারা এসবকে এক কথায় ভুয়া বলে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয় তারা আসলে পুঁজিবাদী-বিজ্ঞান চিন্তার শিকার। মানুষের কল্পনা বা মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাকে বিজ্ঞানের বাইরে রাখলে বা অ-বিজ্ঞান বলে উড়িয়ে দিলে সে বিজ্ঞান অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে ওঠে। আর বিজ্ঞান যান্ত্রিক আছে বলেই পারমাণবিক বোমা বিজ্ঞানের উন্নয়ন বটে!
খুব গভীরে ভাবলে, দুনিয়াটা আসলে নিজেই একটা কল্পনা মাত্র। যদিও কট্টর বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য দুনিয়া অনেকটা অহেতুক হয়ে যায়। কারণ কট্টর বিজ্ঞানে শেষপর্যন্ত আর কিছুই নাই। প্রশ্ন হলো, তাহলে এত কিছু কেন? মানুষ এত কষ্ট করবে কেন? অহেতুক শিশুরা না খেয়ে মরছে দেশে দেশে! মানব সভ্যতা যে সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তার সহজ সমাধান তো আছে তাহলে। কট্টর বিজ্ঞানের এক্কেবারে যৌক্তিক সমাধান আছে। আর সেটা হলো, কয়েকটা পারমাণবিক বোমা মেরে দুনিয়া শেষ করে দেয়া। ওয়ার্মহোল এখন অনেকটা শক্তিশালী তত্ত্ব। ওয়ার্মহোল হলো তত্ত্বীয়ভাবে পাওয়া এমন একটি সংক্ষিপ্ত গমনপথ যা স্থান-কালের ভেতর দিয়ে মহাবিশ্বের একস্থান থেকে দীর্ঘ দূরত্বে অন্যস্থানে ভ্রমণ অনুমোদন করে...
এরপর তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, অতি নিকটবর্তী। ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ তার বান্দার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার তা করলেন। (সূরা নাজম, আয়াত: ৮-১০)
এছাড়া প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম বা উপকথাতেও এমন অনেক গল্প আছে। আধুনিক বিজ্ঞানের মতো এসব ধর্ম বা উপকথা সবই রহস্যময়। হ্যাঁ, এসব গল্প নিয়ে অনেকেই কট্টরপন্থী আচরণ করছে, ধর্মের নামে মানুষ মারছে। সেটার সমস্যা অন্যখানে। কিন্তু তাই বলে সব ফেলে দিতে হবে? যে সমাজে মানব মুক্তি নাই, শ্রেণি বিভেদ আছে, ন্যায় নাই সেখানে ধর্ম থাকবেই। সেখানে বসে যারা ধর্ম বিলুপ্তির চিন্তা করেন, তারা স্রেফ আফিম সেবন করেন। তারা পুঁজিবাদী মুনাফা লোভি বিজ্ঞানের কথা বলার জন্যেই বলছেন। অন্যদিকে শিল্পের সাথে যতটা বাস্তবতা আছে তার সমানে আছে কল্পনা। ঈশ্বর কল্পনা ছাড়া শিল্পও অহেতুক। তাই হয়তো ভিঞ্চি প্রায়োরি অব সাইওয়ানর গ্রান্ড মাস্টার ছিলেন! মোনালিসা অহেতুক আঁকেন নাই, ঈশ্বরকেই এঁকেছেন ভিঞ্চি... কার্ল মার্কস বলেছিলেন, ধর্ম এই হৃদয়হীন পৃথিবীর হৃদয়।
ধর্ম বলতে এখানে শুধুই নামাজ বা পূজা বা চার্চ, বিষয়টা সবার জন্য এমন নয়। বরং সবার জন্য একটা কাল্পনিক জগতের আশা... নিউটনের রয়েল কলেজ অব ইনভিজেবল নিয়ে গল্পগুলোও বিজ্ঞানের অংশ। হয়ত তার অনেক গল্পই সত্য। যে ঈশ্বরের কথা স্পিনোজাও বলেছেন তার দর্শনে, সেটাও ছিল কল্পনা। দর্শনহীন বিজ্ঞান পুঁজিবাদের আরেক আধুনিক অস্ত্র। যেখানে শুধু ব্যবসা আছে মানুষ নাই। তাই শ্রমদাস যৌক্তিক পুঁজিবাদের চোখে। কারণ তার কল্পনাকে অস্বীকার করে এধারার বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞান মানুষের বিজ্ঞান না। যন্ত্রের বিজ্ঞান।