খসরু পারভেজ

খসরু পারভেজ

খসরু পারভেজের ৪ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ০৫, ২০২৫

দূর থেকে কাছে

পাহাড়ের গায়ে ক্ষতচিহ্ন থাকে
তাই দূর থেকে পাহাড়কে দেখা ভালো
চাঁদের শরীরে কালো দাগ
তাই দূর থেকে চাঁদকে সুন্দর লাগে

দূর থেকে আকাশকে দেখো, প্রশান্তি মিলবে
পাখিদের পথযাত্রা দেখো, কত সীমাহীন ওরা
দূর থেকে গান হয়ে ভেসে আসে নদীর কল্লোল
সাগরের কলরব সুর হয়ে কানে বাজে
কাছে এলে থেমে যায় সব গান সব সুর

আমাকে দূর থেকেই দেখো
দেখবে, কত সুন্দর আমি

কেবলমাত্র নিজেকে তুমি নিকট থেকেই দ‍েখো
খুব কাছ থেকে জীবনকে না দেখলে
অচেনা থেকে যাবে জীবন
জ‍্যোতিষির মতো নিবিড় হও নিজের কাছে।

বৃক্ষপুরাণ

শীতের সকালে হালকা নরম রোদ
বৃক্ষকে দুলিয়ে দেয় আকুল আদর
তুমি তখনও জড়িয়ে চৌচির চাদর
বুক ভরে নিচ্ছ তীব্র শীতবহ বোধ!

প্রতিটি পাতার পিঠে সুহাস সকাল
লিখে রেখে যায় তার মৃত‍্যুহীন পদ‍্য
রোদের ফুলকি ফুটে ওঠে প্রেমে সদ‍্য
ঘুচে যায়— মুছে যায় অসুস্থ অকাল!

যার রক্তে ঢুকে আছে ভয়াবহ শীত
রোদের তরিকা সেকি কখনও বোঝে
আজন্ম শীতের শোক বুকে নিয়ে খোঁজে
রোদের ঝিনুক আর সমুদ্র-সংগীত!

বৃক্ষের বুকে অনন্ত উষ্ণতার আলো
তার বুকে বুক রেখে প্রাণে দীপ জ্বালো।

সম্পর্কের আগুনে

গভীর সম্পর্ক গভীর ক্ষতের জন্ম দেয়
ক্ষরণের কষ গলে গলে পড়ে, ভেজে মন
প্রাণের পলিতে বেদনার্ত চর জেগে থাকে

হৃদয় খুঁড়েই তো বুনতে হয় সম্পর্কের বীজ
বীজ থেকে জন্ম হয় জীবন-বৃক্ষের
শেকড় যতই গভীরে ঢোকে
বড় হয় ফাটলের দাগ
কাঁদে জন্মমাটি

সম্পর্করা ভেঙে যায়, কিন্তু মরে না কখনও
টুকরো টুকরো হয় পাথরের মতো প্রেম
সেই পাথর বুকে জড়িয়ে মানুষ বাঁচে
ক্ষতচিহ্নে লিখে রাখে জীবনের এপিটাফ

দগদগে যন্ত্রণার জলে ভালোবাসা ডুবে মরে
কী করে তোমাকে অস্বীকার করি বলো
জালের মতো জড়িয়ে ছিলে তাই
সেই জাল ছিঁড়ে বের হতে পারিনি আজও
সম্পর্ক তো এক মৃত‍্যুমোহ জাল

আলো হয়ে জ্বলেছিলে তাই জ্বলে-পুড়ে মরি
নিজেকে পোড়াই সম্পর্ক-আগুনে।

সুগন্ধি মানুষ ও চন্দন কাঠের পাচার কাহিনি

আমি কিছু মানুষকে চিনি
যারা খুউব করে পারফিউম মেখে প্রতিদিন
ঘর থেকে বের হয়
বডি স্প্রে, ডিওডোরেন্ট কোনোটাই বাদ যায় না

কেউ বুঝতে পারে না
ওদের ভেতর কী বিশ্রী দুর্গন্ধ মজ্জাগত হয়ে আছে
যেন গ‍্যাংগিরিনে পচা পায়ের গন্ধ
ময়লাপোতার দীর্ঘশ্বাস
শামুকের শরবত পানরত আদিম প্রজাতি

একমাত্র কবিদের পাশে এলে
প্রকৃত গন্ধ বের হয়ে এসে খসিয়ে দেয় সবুজের ধ‍্যান
তুলকালাম ঘটে যায় লোকালয়ে
তবু যুগপৎ পিঁড়িতে বসে
নক্ষত্রখচিত জামা পরে ওরা হাসতে থাকে

প্রকৃত মানুষের ঘ্রাণশক্তি
কবিদের চেয়ে কেন নেমে আসছে মাইনাস ডিগ্রিতে
অপ্রকৃত মানুষ— এই কবিরা তা কি জানে

আমাদের বন থেকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে চন্দনকাঠ
বুঝতে পারে না বনপুলিশ-কোতোয়াল-নৈশ প্রহরী
কবি ছাড়া কেউ।