
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ
আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর ৩ কবিতা
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫
রেইনফরেস্টে গিয়ে
রেইনফরেস্টে গিয়ে বাদামি হরিণ খুঁজি।
হরিণ তো নাই, বৃষ্টিরও দেখা পাই নাই।
রাবার, পাইন, মেহগনি মিলেমিশে
সবুজ সবুজ আহা— চিরহরিৎ অন্তর্লীন।
আমাদের হাড়-মাংস, করোটি ঢুকে যায়
আকাশ ছুঁই ছুঁই গাছের গোপন জরায়ু বেয়ে।
হালকা ব্রিজ দিয়ে ওপরে ওঠে—
লম্বা লম্বা গাছের ব্যাকড্রপে সবার আগে
নিজেকেই দেখি। অতিবৃষ্টির নাম করে
গাছে গাছে ঝুলে আছে আমারই
কালো কফিন— স্বপ্নে পাওয়া তরবারি।
আমার পিছনে পিছনে যারা আসছে
তাদের নিজেকে নিজে খোঁজার বায়োস্কোপগুলো
ফ্যাকাশে হয়ে উঠছে— নিচে পড়ে থাকা
মৃত একটা ট্রি-পাইথনের করতলে।
রেইনফরেস্ট তার স্বভাব বশত ক্রমশ
দূর হয়ে পড়ছে গাছকাটা মানুষের কাছে।
দেখি— একটা ডেইন্ট্রির নক্ষত্র পাতায়
চিঠি লিখছে সন্তান হারানো নীল গিরগিটি।
বিচার
আসাদও পালিয়ে গেল হাসিনার মতো!
সমস্ত স্বৈরাচার, ঘাতক এভাবে
শেষপর্যন্ত পালিয়ে যায়,
না-হয় ফাঁসিতে মরে।
কবরে যাওয়ার আগে
কোনো হত্যার কথা
কি তাদের মনে পড়ে?
যদিও তাদের হৃদয় পাথরের তৈরি
হায়েনারাও তাদের চেয়ে ভালো,
স্বজাতিকে মায়া করে!
জুলাইনামা
এসেছে জুলাই, শত অপেক্ষার দিন-রাত্রি পরে।
যদি রক্ত চাও, তাই দেব
দিতে চাই সবকিছু, মৃত জীবনের বেদীমূলে
আমাকে শহিদ করো গোলাপের নামে।
এই জুলাইয়ে ফিরবো না আর ঘরে
যতক্ষণ জান আছে ততক্ষণ সামনে কদম চলে।
আমরা এসেছি যূথবদ্ধ— নতুন জন্মের ঘ্রাণে
ভয়, শঙ্কামুক্ত হলো লড়াইয়ের ময়দানে।
ছিলাম মায়াপুরীতে, সর্পনারীর ছোবলে
বন্দি তার আয়নামহলে। তার বিষ দংশনে ছিলাম
অজ্ঞান ও বেহুঁশ। এলো তীব্র জুলাই ঘোষণা।
ঘুম ভেঙে গেল বাঙালির
উবে গেল বিষের পেয়ালা,
হলো কবর অত্যাচারীর মিথ্যা রচনা।
কী রকম বেজে উঠলো রুহের গান
তার লাল রঙ ছড়িয়ে গেল দিকে দিকে
যেন শত মৃত্যুর পরেও আলো জ্বলে
কবরের ঘাসে।
জুলাইয়ের দিকে বাঙলা কবিতা যায়
কবিতা তার জন্ম কুনিয়া ফিরে পায়।
জুলাই এলো আর রক্ত পেল কবিতার ভাষা।
শব্দে শব্দে জেগে উঠলো আগুনের পিপাসা।
রাস্তায় কি একা আবু সাঈদ দাঁড়িয়ে ছিল?
নাকি হাজারও সাঈদ বীর হয়ে
বুক পেতে দিয়েছিল বুলেটে, শিকারি হায়েনার ফাঁদে?
ধ্বংস হোক ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার
বাবা আর বেটি যার ইতিহাস।
যত ফিরাউন জন্ম নেবে এ বাংলায়,
তার নিশ্চিত কবর গড়ে দেবে অমর জুলাই।
যে জন্ম জুলাইয়ের বিপ্লব দেখেছে
সে নতুন এক বাংলাদেশ হৃদয়ে ধরেছে।
সে সদা প্রস্তুত যুদ্ধ করে মরে যেতে
তারা গাজি তারা জীবন্ত শহিদ
তারা আবরার ফাহাদ, মুগ্ধ,
তারা জুলফিকার, আবিদ।
আমাকে আবার তীব্র জুলাই দাও
আমাকে শহিদ আবু সাঈদের কাফন পরাও।