রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়লে কঠোর সাজা ভারতে

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : মার্চ ৩০, ২০২৫

ঈদুল ফিতরের নামাজকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মিরাট পুলিশ কড়া নির্দেশনা জারি করেছে। ঈদে রাস্তায় নামাজ আদায় করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা পাসপোর্ট বাতিল ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দের মতো সিদ্ধান্তে গড়াতে পারে।

মিরাটের পুলিশ সুপার (সিটি) আয়ুষ বিক্রম সিং বলেন, “ঈদের নামাজ কেবল মসজিদ কিংবা নির্ধারিত ঈদগাহেই আদায় করতে হবে। কেউ রাস্তায় নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) নেতা জয়ন্ত সিং চৌধুরী বলেন, “যদি কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়, তাহলে তার পাসপোর্ট ও লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। নতুন পাসপোর্ট পেতে আদালতের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) লাগবে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব নথি বাজেয়াপ্ত থাকবে।”

মিরাটের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) বিপিন তাডা বলেন, “জেলা ও থানা পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গুজব ছড়ানো বা সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচার চালানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

নিরাপত্তা জোরদারে প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংবেদনশীল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জয়ন্ত সিং চৌধুরী বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় উর্দি পরিহিত ও সাদাপোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।”

মিরাট পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যারা রাস্তায় নামাজ আদায়ের নিয়ম ভাঙবে, তাদের পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে এবং নতুন পাসপোর্ট পেতে হলে আদালতের অনুমোদন নিতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি