রহমান হেনরীর তিনটি কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ১৯, ২০২৫

মাদিসাপ

গোপনে কামড় দিয়ে
প্রকাশ্য বাগানে হাঁটে, নির্বিকার,
নিরপেক্ষ পাখিসন্ধ্যা ডালে ডালে উজ্জ্বল নাচে;

অন্ধকার দ্বিধাগ্রস্ত; ধীর পদক্ষেপে এসে ঘটনাবলির গায়ে চাদর বিছিয়ে দেয়;
চুপচাপ বসে থাকে; তারপর
উঠে চলে যায়

রোদের ম্যান্ডেট নিয়ে
দিন আসে। ...কিছুই ঘটেনি যেন,
রাত্রিকে রাজত্ব দিতে চায়—

শিকার সংক্রান্ত

বরাহভূমিতে শুয়ে মনে হলো:
চেতনার নামে প্রতারিত, রক্তাক্ত প্রাণী আমি;
এবার, মানুষ হতে হবে—

তারও আগে, শরপ্রক্ষেপণবিদ্যা
শিখে নিতে হবে;

শিখে নিতে হবে: একটি জীবৎকালে
বেশি নয়— চার-পাঁচটা খবিশ শিকার
কীভাবে সম্ভব হতে পারে—
(মৃগয়া আমার নয়; শুয়োরের লাশ,
টেনে হিঁচড়ে নিতে চাই ভাগাড়ে বা আদিরসাতলে...)

এ কালে তো দ্রোণাচার্য নেই!
গুরুদক্ষিণার রীতি ভেঙে ফেলা একলব্য হতে হবে; ইতিহাস একথাই লিখে যাচ্ছে আজও—

সাঁঝ

আকাশে যখন ছড়িয়ে পড়লো— সাঁঝ
বাতাসে আগাম স্বপ্নের আওয়াজ
ঝুমঝুম তুলে ছুটে যায়— বেদুঈন
পথঘাট সবই মরুমরু সারাদিন

রক্ত এমন আল্পনা আঁকে আজ
পিষ্ট হৃদয় সবখানে রেখে চিন—
কোন্ দিকে দূর হ্রদের কিনারে যায়?

তবে তো এরূপ শাদাশাড়ি-সন্ধ্যায়
তোমার স্মৃতিকে ডাকবো আবারও— ছাদে
শুনবো— বাতাসে কার স্বর এত কাঁদে

কোন্ সেতু ভাঙে— কোন্ পাহাড়ের ধস
গোপনে-নিরালে বাজায় পাখোয়াজ
কোন্ পুরাণের পুরাতন সোমরস
শূন্যে ছিটায়— অশ্রুঝরানো ঝাঁঝ!