রহমান মুফিজের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : অক্টোবর ২২, ২০২৩
রাত্রিপরম্পরা
আজও কিনেছি বেতাল রাত্রি
শরীরে তার ছায়া পড়ছে, ডুবে যাচ্ছে বিক্ষোভ
দূরের আলো থেকে ছেড়ে আসছে গর্জন
তরঙ্গনিগূঢ় নেশা; ধেয়ে আসছে অচেনা গাড়ি
বৃষ্টি কেবলি থেমেছে, তুমিও বাড়িয়েছো হাত
যাদের পরিধেয় সচ্ছল তাদের তখনো আঁঠালো পা
মিশে যাচ্ছে রাস্তায়, কাদাকাদি স্মৃতিতে
গড়িয়ে গড়িয়ে কই যাবে তুমি
ঝোপঝাড়, গোলাপের বাগান তো কেটে যাওয়া ধ্বনি
নিশাচর ত্বকের কাছে জিজ্ঞেস করে দেখো
এখনই সে ঘুমোতে চায় কিনা
ঘুম সব জপমালা হাতে বেরিয়েছে ভ্রমণে
তুমি আর আমি কোথা থেকে আসি কেউ তো জানে না
অনুল্লেখ
সেইসব বিছানা এখনো তাগড়া, বিরল
কানে কানে রেখে যাওয়া ফলিত প্রেম
সেইসব গন্ধ থেকে জন্ম নেয়া ব্রহ্মাণ্ডরা
এখনো বেড়ে দেয় গরম ভাত, মাছের ঝোল
গেলাসের নিপুণ জল সেরে আসে অভিসার
আঙুলেও কারও কারও চমৎকার তকদির
আলগোছে খুলে দেয় অপরিমেয় বিস্ময়
কারও কারও করতলে বিধৃত জাদুঘর
সেইসব দিন, সেইসব চুম্বন যেখানেই যাক
নৈশপ্রার্থনায় মরে যাওয়া বালিকারা যেখানেই
জন্মাক, একদিন তারা ফিরবে। গ্রামদেশের
সাঁকো হয়ে হাসবেই কচুরির ডোবায়।
হোমারের চোখ
আমার চোখ যে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে
দৃশ্যের পর দৃশ্য চলে যাচ্ছে ভাগাড়ে
স্মৃতির কীর্তি থেকে উঠে আসছে পুরাতন বৈভব...
তুমি তার কোনোখানে নেই
তুমি নেই আশ্চর্য ঘটনার মতো
নেই বর্তমানে
অতীতেও নেই
অচল তুমি ভবিষ্যতেও
শিরায় শিরায় বুনে চলেছি তোমার অনুপস্থিতি
তবু মনে করতে না চাওয়া তোমার মুখ
সবথেকে বেশি দৃশ্য হয়ে আসে
আশ্চর্য ঘটনার মতো তুমি থেকে যাও
অন্ধত্বের প্রকোষ্টেও ঢুকে পড়ো তুমি
অথচ তুমি নেই
নেই, নেই কোথাও
আমার চোখ থেকে ঝরে যাচ্ছে পলকের গতি
ক্ষণজন্মা ঝড়ের মতো ঝরে যাচ্ছে আলো
যে আলো দেখে ময়দানে মানুষ
ধীরে সব অতল পেরিয়ে যে আলো
তুমি হয়ে ওঠে, সে আলো স্রেফ স্মৃতিবিদ্যুৎ
কোনো ঘটনা নেই, তবু অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে
তোলপাড় তোলপাড় বিবিধ হৃদয়
চুপচাপ ভেঙে যাচ্ছে ভেতরে ভেতর
দেখা যাচ্ছে যা সবটাই সাবলীল মুখ
অগোচরে প্রপাত প্রবল পরাক্রান্ত সমরশৈলী
গোপনে মরে যাচ্ছে কতিপয় সুর
অথচ তুমি নেই,
নেই, নেই কোথাও
হোমারের চোখের মতো
আমি শুধু নিরেট আত্মা হয়ে উঠি
আমি কাকে যে খুঁজি এখনো জানি না।
মুখ ও মুখস্ত
অবিচ্ছিন্ন সে মুখ
জর্দার ঘ্রাণের মতো গজিয়ে ওঠে চোখে।
মাতাল যেভাবে টেনে টেনে চলে শরীর
রাস্তা যেভাবে বৃষ্টিতে টলে টলে ছলকায়
সে রকম আসক্তি নিয়ে ঘাই মারে কপালে
আচম্বিতে কেঁপে কেঁপে ওঠে হৃদপিণ্ডের সুখ।
অবিচ্ছিন্ন সে করাত
রাতবিরেতে হানা দেয় বিরান শূন্যতা।
মাথার ওপর থেকে সরে যায় দরদালান
শাওয়ারের নিচে উলঙ্গ শিশু এক তড়পায়
রেখে যায় দূরের আলাপ, অথবা অপালাপ
কেটে কেটে যায় সলিলে গুঁজে রাখা অনুরাগ।
চিরবিরহী দুইটা মুখের জন্য
হাওয়ায় গন্ধ ছড়িয়ে চলে যাচ্ছে মওসুম
পাট ভেঙে তবু উঠছে না গায়ে শাড়ি
বিরহী ঘোড়ার কেশরে কাটছে কে বিলি
ঘুম ভেঙে গেলে তো দেখি অপক্ক শর্বরী
অনুকূল নয় কোনো হৃদয়ের আবহাওয়া
কোনো করতলও নয় দেখি সদা সত্যাশ্রয়ী
অভিসার যাকে চেনে না সে কতটা কাতর
কতটা প্রেমী, যদি নিল না কোনো অপবাদই
চোখের মতোই ভীষণ মুখর দুইটা শরীর
কথা থেকে তবু উঠে আসছে না সম্মতি