অসুস্থ স্ত্রীকে রেখে পচে যাওয়া দেশের জন্য ছুটছেন ড. ইউনূস

মারফিয়া হাসান

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৩, ২০২৫

আফরোজী ইউনূস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দাথবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে পর্দাথবিজ্ঞানের গবেষক হিসেবে থাকার সময় পরিচয় হয় মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে।

প্রথম ডিভোর্সের পর দীর্ঘদিনের একাকিত্বের অবসান ঘটান ড. ইউনূস। আফরোজী ইউনূসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রধান উপদেষ্টা হবার পর অনেক জাবিয়ান ইউনূস স্যারকে জাবির দুলাভাই বলে সম্বোধন করেন।

আফরোজী ইউনূসের বেড়ে ওঠা কিন্তু ওপার বাংলায়। কলকাতার বর্ধমান শহরের রাণীগঞ্জ বাজারের কাছে লস্করদিঘি এলাকায় আফরোজীর শৈশব ও কৈশোর পার হয়। সেই সূত্রে, ইউনূস স্যার কলকাতারও জামাই বাবু।

দাম্পত্য জীবনে তারা সুখি দম্পতি ছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাধে আফরোজী ইউনূসের ডিমেনশিয়া রোগ। ধীরে ধীরে ভুলতে থাকেন নাম, নাম্বার, দৈনন্দিন কাজ, পুরানো স্মৃতি, পাড়া প্রতিবেশি সবাইকে। একটা সময় ভুলে বসলেন তার নিত্যদিনের জগৎটাকেই। শুধু স্মৃতিতে থেকে গেলেন ইউনূস স্যার।

ডিমেনশিয়ার প্রথম স্টেইজে আছি কিনা সেটা নিয়ে আমার ডাক্তার অনেক চেকাপ করেন একসময়। সেই কারণেই এই রোগ সম্পর্কে আমার জানাশোনা আছে। আমি নাম্বার, অনেকের নাম ভুলে যাই। অনেকে হয়তো কষ্ট পান আমার এই আচরণে। কিন্তু আসলেই আমি ভুলে যাই, মনে রাখতে পারি না অনেক কিছুই।

অনেক স্মৃতি একদমই ভুলে গিয়েছি। বিশেষ করে প্রথম বিয়ে সংসার এসব কিছু স্মরণ করতে গেলে আমার পুরানো ছবি দেখতে হয়। তো, এসব ফেইস করছি, আরো অনেক কিছুই আছে। আমার শুধু তাদের কথাই স্পষ্টভাবে মনে আছে যাদের সাথে খুব ভালো সময় পার করেছি। যাদের সাথে খুব সুসম্পর্ক ছিল।

আজকে আমি বলি, আমি অনেক কিছুই কেন লিখে যাই। কারণ, ভবিষ্যতে যদি এই সমস্যা আরো বেড়ে যায় অন্তত লেখাগুলো যেন থেকে যায়। তো নিজেকে দিয়েই বুঝেছি, আফরোজী ম্যাম ইউনূস স্যারকেই কেন মনে রেখেছেন। কার,ণ স্যার ম্যামকে যথেষ্ট ভালোবাসতেন, সম্মান করতেন।

তার প্রমাণ তিনি প্রধান উপদেষ্টা হবার আগেই জানিয়েছিলেন যে, স্ত্রীর দেখাশোনার দায়িত্ব তার, তার স্ত্রী তাকে ছাড়া কাউকে চেনেন না, খাওয়া দাওয়ার সব দায়িত্ব তার।

একজন মানুষ বৃদ্ধ হলেও দিন দিন শিশুর মতোন হয়ে যাচ্ছেন। কাউকে চেনেন না, কাউকে তার মনে নেই। কতটা অসহায় লাগে নিজের কাছে নিজেকে? চিনেন শুধু স্বামীকে, সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে আছেন সেই স্বামীর প্রতি।

দুজন মানুষের শেষ জীবন হয়তো এভাবেই একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে, যত্নে, ভালোবাসায় কেটে যাবার কথা। কিন্তু নাহ, বাধা দিলো ৫ আগস্ট। আমরা দেশের জন্য যোগ্য নেতা পেলেও, আফরোজী ম্যাম আর আগের মতোন পাশে পান না স্বামী মুহাম্মদ ইউনূসকে।

কেমন যায় তার দিনকাল? কে যত্ন নেয় তার? তিনি তো কাউকে চিনেন না, অচেনা কারো যত্ন কি অ্যাক্সেপ্ট করতে চান? অবিশ্বাস, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের আতংক নিয়ে কেমন যাচ্ছে একজন বয়স্ক নারীর প্রতিটা বেলা?

সম্মান, সুখ, বিলাসিতা, শান্তি ও স্ত্রীর দেখাশোনার দায়িত্ব সব রেখে একজন ব্যক্তি এই পচে যাওয়া দেশের জন্য নিত্যদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রীতিমতো অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। নিত্যদিনের পণ্য গরিব মানুষের হাতের নাগালে রাখার জন্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ কঠোরতা দেখিয়েছেন।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে, দেশের তরুণদের প্রতিভাকে যোগ্য জায়গায় নিয়ে যাবার জন্য প্রতিদিন একেক মহলে ড. ইউনূস দেন-দরবার চালাচ্ছেন। ছুটে যাচ্ছেন বিশ্বের একেক প্রান্তে। স্বার্থ তার একটাই, বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

এই সৎ চাওয়াটুকুর জন্য তার স্যাক্রিফাইস তার অসুস্থ ওয়াইফের স্যাক্রিফাইস সব ভুলে আমরা যা তা বলে বসছি, সুদখোর ইউনূস বলি, দাজ্জাল বলি। নিজেদের দিকে তাকাই না যে, আমরা কি করছি? এই দেশের জন্য আমাদের ডেডিকেশন ১৫ বছরে কি ছিল আর এখনই বা কি আছে?

জবাবদিহি শুধু ইউনূস স্যারের হবে না, আমাদের মতোন অধম, অকৃতজ্ঞ ও নালায়েকদেরও হবে। তবে, ওই মুনাফেকদের বিচার আগে হবে যারা ইনসাফের সংগ্রামে মুখে কুলুপ এঁটে ছিল।